রাজ্যের সবথেকে চর্চিত একটি প্রকল্প হলো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। অনেকেই কিভাবে আবেদন করবেন এই নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন। কেউ কেউ তেরো পাতার ফর্ম দেখে বিচলিত হয়ে আছেন। অনেকে আবার ভাবছেন অনলাইনে নাকি অফলাইনে আবেদন করবেন। তাই আজকের এই প্রতিবেদনে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সম্পর্কে জরুরী কিছু আপডেট দিতে যাচ্ছি। যদি আপনি এই প্রকল্পে আবেদন জানাতে চান এবং কিভাবে আবেদন করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হলো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। এই প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো কারণ একবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেলে প্রতি মাসে ঘরে বসে ৩০০০ করে একাউন্টে চলে আসবে। বড় কথা হলো আপনাকে কোন কাজেই করতে হবে না শুধু কিছু শর্ত পূরণ করলেই মাসে ঘরে বসে সহায়তা পেয়ে যাবেন। তাই এই প্রকল্প ঘিরে মহিলাদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সরকার কর্তৃক জানানো হয়েছে একজন ২০২৬ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত। একটা না অনলাইন অফলাইন মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে অনেকেই যারা ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাদের জন্য সরকার কর্তৃক জানানো হয়, যারা ফরম পূরণ করতে পারবেন না তাদের বাড়িতে গিয়ে আধিকারিকগণ ফরম ফিলাপের সহায়তা পড়বেন।

আর এখানেই থেমে নেই, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফরম ফিলাপ নিয়ে রাজ্য সরকার আরো একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজ্য সরকার কর্তৃক জানানো হয় রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় এলাকায় জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হবে। এই জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে আপনি আপনার ফরম জমা দিতে পারবেন। এছাড়াও যদি কোন কিছু জানার থাকে, সেখান থেকেই আপনি জানতে পারবেন। প্রত্যেক এলাকায় নির্দিষ্ট তারিখে এই জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হবে।

কীভাবে অফলাইন আবেদন করতে হবে :

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অফলাইন ফর্ম ফিলাপ করতে আপনাকে সর্বপ্রথম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অর্থাৎ রাজ্য সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এখানে গিয়ে সর্বপ্রথম আপনাকে ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে। দীর্ঘ ফর্মটি সংগ্রহ করে প্রিন্ট আউট বের করে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সেই ফর্মটি পূরণ করতে হবে। ফরম পূরন শেষ হলে শেষে নির্দিষ্ট শিবিরে চাইতে অথবা গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে জমা করতে হবে।

কি কি নথি থাকতে হবে :

এক্ষেত্রে যদি আপনি আবেদন করতে যান তাহলে অবশ্যই আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ হিসাবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেটি জমা করতে হবে। জমির কোন বাচ্চা বা রেকর্ড থাকলে সেটি জমা করতে হবে। প্রার্থীর ব্যাংক একাউন্ট জমা করতে। এছাড়াও আরো কিছু ডকুমেন্টস রয়েছে যেভাবে আপনি ফর্মটি ফিলাপ করবেন তার তথ্য সূত্র হিসেবে সে ডকুমেন্টসও জমা করতে হবে।

কারা কারা আবেদন করতে পারবেন :

এই প্রকল্পটি যেহেতু লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পকে পুনরূপ দিতে চলেছে তাই অবশ্যই লক্ষীর ভাণ্ডারের মতো সম যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি মহিলাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং কমপক্ষে বয়স থাকতে হবে ২৫ বছর। সর্বাধিক ৬০ বছর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। মহিলা অবশ্যই কোন সরকারি চাকরি বা ইনকাম ট্যাক্স পেয়ার ইত্যাদি হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ :

যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদন জানাতে চান, তারা ১ জুন থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এরপর এই আবেদন প্রক্রিয়া টানা ৯০ দিন পর্যন্ত চলবেই।

আবেদনের ধরনতারিখ
আবেদন শুরু১ জুন ২২০৬
আবেদন চলবেটানা ৯০ দিন

অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন :

অনলাইনে আবেদন করতে রাজ্য সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনাকে সংশ্লিষ্ট আবেদন লিঙ্ক খুঁজে নিতে হবে। সরকার কর্তৃক যখন আবেদন লিংক সক্রিয় করা হবে তখন অনলাইন আবেদন করার লিংক খুঁজে পেয়ে যাবেন। এরপর সেখানে ক্লিক করে পুরো ফর্মটি নির্দেশ মতো পূরণ করতে হবে। তবে এখনো পর্যন্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করার লিংক সক্রিয় করা হয়নি। পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত আপডেট আসলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *