ঘরে বসে ট্রেড লাইসেন্স! মেবাইলে করে ফেলুন আবেদন। দেখুন বিস্তারিত – WB Trade Licence Apply

WB Trade Licence Apply:  পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো ব্যবসা বা বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য একটি পঞ্চায়েত ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে। এটি যেকোনো ব্যবসা পরিচালনা বা ছাড় পাওয়ার জন্য সরকারি অনুমতি প্রদান করে থাকে এবং উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়। আজকের এই বিশদ প্রতিবেদনে আমরা জানব কীভাবে অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে, কি কি ধরনের ডকুমেন্টস থাকতে হবে, ফি কত জমা করতে হবে এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ট্রেড লাইসেন্স কী? (What is Panchayat Trade Licence)

আমরা অনেকে জানি ট্রেড লাইসেন্স হলো ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকার প্রদত্ত একটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র। শব্দটির ব্যাখ্যা করলে, “Trade” অর্থ ব্যবসা এবং “Licence” অর্থ অনুমতি পত্র।

সম্পর্কিত পোস্ট

OBC,SC,ST থাকলে ৪৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ! স্কুল কলেজ সকলের পড়ুয়া জন্য দারুণ সুযোগ - Oasis OBC Scholarship 2026

পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোতে, এই লাইসেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। পঞ্চায়েত ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া যেকোনো ব্যবসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ হয়ে থাকে।

আগে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যেতে হতো, তবে বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে এটি সহজেই করা সম্ভব হয়েছে।

West Bengal Trade Licence-এর সুবিধা

পঞ্চায়েত ট্রেড লাইসেন্স থাকলে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সুবিধা পেতে চলেছেন:

  1. ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য সুবিধা – ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে আপনার দোকানের নামে কারেন্ট বা ব্যবসায়িক ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন।
  2. ব্যাংক লোন নেওয়ার সুবিধা – ব্যবসার জন্য লোন নিতে গেলে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে থাকে।
  3. ব্যবসায়িক নথি স্বীকৃতি – লাইসেন্স ব্যবসায়িক নথি হিসাবে স্বীকৃত হয়ে থাকে ।
  4. কোনও সরকারি চেক বা নিয়মাবলী মানার ক্ষেত্রে সহজতা – ট্রেড লাইসেন্স থাকা মানে সরকারি নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত হয়।

ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

অনলাইনে আবেদন করার সময় নিচের ডকুমেন্টগুলো থাকা প্রয়োজন:

  1. পরিচয়পত্রের জন্য:
    • ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, বা জব কার্ডের যেকোনো একটি থালকে হবে।
  2. মোবাইল নম্বর:
    • আবেদনকারীর একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর থাকতে হবে ।
  3. জায়গার প্রমাণ:
    • খতিয়ান কপি, ভাড়া রশিদ বা চুক্তিপত্রের কপি থাকতে হবে।

ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই সঠিক ও বৈধ হওয়া দরকার। ।

ট্রেড লাইসেন্স কোথায় করতে হয়

আগে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে সরাসরি যেতে হতো। তবে এখন:

  • আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন
  • আবেদন প্রক্রিয়ায় সাধারণত সময় লাগে মাত্র ৫–৭ দিন বা কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বেশি।
  • লাইসেন্স পাওয়ার পর তা অনলাইনে ডাউনলোড করা সম্ভব

ট্রেড লাইসেন্সের ফি

ট্রেড লাইসেন্সের ফি ব্যবসার প্রকার এবং আয় অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। নিম্নরূপ:

  1. Not Paying Professional Tax: ₹150 হয়
  2. Telephone Booth / Cyber Cafe / Xerox Center ইত্যাদি: ₹450 হয়ে থাকে
  3. Paying Professional Tax Except Special Trades: ₹750 হয়ে থাকে
  4. Capital Investment Exceeding ₹500,000: ₹1500 হয়ে থাকে

মেয়াদ: সাধারণত লাইসেন্স ৩ বছরের জন্য বৈধ হয়ে থাকে 

অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের ধাপ

ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ

ধাপ ২: সিটিজেন কর্নার

  • “New Trade Registration” ক্লিক করতে হবে
  • পরবর্তী পেজে “Trade and O.N.C New” সিলেক্ট করতে হবে

ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ

  • Details of Process Trade সেকশনে:
    • District, Block, Gram Panchayat নির্বাচন করতে হবে
    • ব্যবসার নাম ও ধরন নির্বাচন করতে হবে
    • ঠিকানা বিস্তারিতভাবে লিখুন (Village, Samsad, Para, Post Office, Police Station, Pin Code, Mauja No, Dag No, Khatian No)।

ধাপ ৪: Applicant Details

  • আবেদনকারীর নাম, বাবার নাম, পরিচয়পত্রের তথ্য, Type of Ownership, Category, Mobile Number প্রদান করতে হবে ।

ধাপ ৫: ঠিকানা

  • Address of Applicant সেকশনে ঠিকানা একই হলে “Same As Above” ক্লিক করুন, না হলে আলাদা ঠিকানা লিখতে হবে ।

ধাপ ৬: Organise Details

  • কর্মীর সংখ্যা, পূর্ববর্তী বছরের ইনভেস্টমেন্ট, লাভের পরিমাণ লিখতে হবে ।
  • Fees Category সিলেক্ট করতে হবে ।

ধাপ ৭: Document Upload

  • ID Proof এবং Land Record আপলোড করুন (PDF, 16 KB এর নিচে)।
  • Captcha সঠিকভাবে লিখে “I Agree” সিলেক্ট করে Submit করতে হবে ।

ধাপ ৮: Acknowledgement Number

  • আবেদন সাবমিট করার পরে Acknowledgement Number পাবেন।
  • পেমেন্ট সম্পূর্ণ হলে ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে

ধাপ ৯: Pending বা Failed Application

  • যদি আবেদন Pending বা Failed হয়, “Trade N.O.C Status” অপশনে গিয়ে Acknowledgement Number দিয়ে পুনরায় পেমেন্ট সম্পূর্ণ করতে হবে ।

লাইসেন্সের বৈধতা এবং সময়কাল

  • রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: ৫–৭ দিন সময় লাগে।
  • বৈধতা: সাধারণত এক বছর বা তিন বছরের জন্য।
  • Renewal: মেয়াদ শেষের আগে পুনরায় আবেদন করতে হবে।

কেন ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক?

রাজ্যের যে কোনো ব্যবসা বা বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালানো অবৈধ হবে।

কারণগুলো:

  • সরকারি নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা।
  • উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা।
  • ব্যবসার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

FAQs (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

প্রশ্ন ১: ট্রেড লাইসেন্স কোন ধরনের ব্যবসার জন্য প্রয়োজন?
উত্তর: বড় বা ছোট যেকোনো ব্যবসা বা দোকানের জন্য লাগবে।

প্রশ্ন ২: লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালানো কি আইনত দণ্ডনীয়?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি অবৈধ হবে।

প্রশ্ন ৩: অনলাইনে আবেদন করলে সময় কত লাগে?
উত্তর: প্রায় ৫–৭ দিন সময় লাগে।

প্রশ্ন ৪: লাইসেন্সের মেয়াদ কত?
উত্তর: সাধারণত ১–৩ বছর হয়ে থাকে ।

প্রশ্ন ৫: ডকুমেন্টস কোন ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে?
উত্তর: PDF, 16 KB এর নিচে।

পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েত ট্রেড লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদনটি। এটি যে কোনো ব্যবসার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে থাকে, ব্যাংকিং ও লোন সুবিধা দেয় এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলতে সহায়তা করে থাকে। বর্তমানে অনলাইনে লাইসেন্স আবেদন করা সহজ এবং দ্রুত। তাই যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নেওয়ার আগে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

Krishak Bandhu নিয়ে সুসংবাদ! শুরু হল ফের একাউন্টে টাকা ক্রেডিট প্রক্রিয়া, দেখুন বিস্তারিত - WB Krishak Bandhu Scheme Update

Leave a Comment