রাজ্য সরকারের বীমা প্রকল্প! আবেদন করলে বিরাট আর্থিক সহায়তা পাবেন। রইল বিস্তারিত – WB Krishi Bima Scheme

WB Krishi Bima Scheme: রাজ্য সরকার সাধারণত রাজ্যবাসীর জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নিয়ে আসেন।তিনি ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক জনমুখী এবং সাহায্যকারী নানা ধরনের প্রকল্প নিয়ে আসেন। কখনো তিনি নিয়ে এসেছেন বাংলা আবাস যোজনা কখনো আবার স্বাস্থ্য সাথী কখনো লক্ষ্মীর ভান্ডার এছাড়াও আরো নিত্য নতুন সাহায্যকারী প্রকল্প। রাজ্য সরকারের প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত হয়নি এমন মানুষ খুবই কম রয়েছে। 

রাজ্য সরকারের প্রকল্প কম বয়সী থেকে বৃদ্ধ, বেকার থেকে শিক্ষিত কিংবা ব্যবসায়ী অথবা পড়ুয়া সকলেই উপকৃত হয়েছেন। তিনি কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা কিংবা নতুন ব্যবসা করতে আগ্রহী সকলকে নানাভাবে সহায়তার জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। এক কথায় বলতে গেলে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কথা মুখে বলে শেষ করা যাবে না। এবার রাজ্য সরকারের এমন এক প্রকল্প নিয়ে এসেছি যার মাধ্যমে ফের একবার উপকৃত হতে চলেছে রাজ্যের বাসিন্দারা। সেই প্রকল্প মূলত বীমা সংক্রান্ত প্রকল্প এবং একবার আবেদন করলে রাজ্যবাসীরা পেতে পারেন বিরাট এক সহায়তা। এই প্রকল্পের নাম হল শস্য বীমা প্রকল্প –

সম্পর্কিত পোস্ট

কন্যা সন্তান থাকলে এককালীন ৫০ হাজার, সঙ্গে বছরে ১ হাজার অনুদান - WB Govt Helpful Scheme

কী এই বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প

বাংলা শস্য বীমা হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি রাজ্যভিত্তিক কৃষি বীমা প্রকল্পের মধ্যে একটি। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল কৃষকদের ফসলকে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহায়তা প্রদান করা। ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে কৃষকের ক্ষতি কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে রাজ্য সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কথা মাথায় রেখে এই বীমা চালু করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে খুবই সামান্য বা কোনও প্রিমিয়াম না নিয়েই বীমার সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে।

রবি মরশুম ২০২৫-২৬: কোন কোন ফসল বীমার আওতায়

প্রতিবছরের মত চলতি রবি মরশুমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসলকে বাংলা শস্য বীমার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষকরা নিম্নলিখিত ফসলগুলির জন্য আবেদন করতে পারবেন—

  1. আলু
  2. বোরো ধান
  3. গম
  4. সরষে
  5. ছোলা
  6. খেসারি
  7. মসুর ডাল
  8. রবি ভুট্টা
  9. গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা
  10. মুগ
  11. তিল
  12. বাদাম
  13. আখ

এই তালিকাভুক্ত ফসলগুলির যে কোনও এক বা একাধিকের জন্য নির্ধারিত জমির উপর বীমা করার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 কীভাবে আবেদন করবেন

বাংলা শস্য বীমার আবেদন সম্পূর্ণ অফলাইন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। তাই ফর্ম ফিলাপের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করতে হয়।

১. কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য

ফর্মের শুরুতেই কৃষকের নাম পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে। নাম বাংলায় অথবা ইংরেজিতে লেখা যেতে পারে, তবে সমস্ত নথির সঙ্গে যেন মিল থেকে থাকে।

এরপর লিখতে হবে—

  1. পিতা / মাতা / স্বামী বা অভিভাবকের নাম
  2. বয়স উল্লেখ
  3. লিঙ্গ
  4. জাতিগত পরিচয় (তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, ওবিসি বা সাধারণ)
  5. সচল মোবাইল নম্বর

এছাড়া ভোটার কার্ড নম্বর ও আধার কার্ড নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক এখানে

২. ঠিকানা ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য

এই অংশে কৃষকের বর্তমান ঠিকানা বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে—

  • মৌজার নাম উল্লেখ করা জরুরি
  • গ্রাম পঞ্চায়েত
  • ব্লক
  • জেলা

এরপর উল্লেখ করতে হবে—

  • কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) আছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে
  • কৃষক বন্ধু আইডি নম্বর

যদি কৃষক বন্ধু আইডি জানা না থাকে, তাহলে কৃষক বন্ধু পোর্টালে গিয়ে ভোটার কার্ড নম্বর দিয়ে আইডি জেনে নেওয়া যায়। মনে রাখতে হবে এই আইডি ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

৩. জমি ও ফসল সংক্রান্ত বিবরণ

এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমির তথ্য ভুল হলে বীমা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এখানে লিখতে হবে—

  • যে ফসলের জন্য বীমা করা হচ্ছে তার নাম কি
  • জমি যে ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত ও মৌজায় অবস্থিত তার বিবরণ দিতে হবে
  • খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর দেওয়া
  • জমির পরিমাণ একর হিসেবে (১০ শতক হলে ০.১০ একর)
  • জমিটি নিজস্ব নাকি ভাগচাষে নেওয়া
  • ফসল রোপণের সম্ভাব্য বা প্রকৃত তারিখ

৪. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ

বীমার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়ে থাকে। তাই এই অংশে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে আপনাকে।

দিতে হবে—

  1. ব্যাঙ্কের নাম
  2. শাখার নাম
  3. অ্যাকাউন্ট নম্বর
  4. IFSC কোড

সবচেয়ে ভালো হয় যদি আধার লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায় তাহলে।

আবেদন করতে যে নথিপত্র লাগবে

ফর্মের সঙ্গে নিম্নলিখিত নথিপত্রগুলির Self-Attested জেরক্স কপি জমা দিতে হবে—

  1. ভোটার কার্ড
  2. আধার কার্ড
  3. ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতা
  4. জমির খতিয়ান বা সাম্প্রতিক পর্চা (২০২৩-২৪ সালের)

তবে নথিপত্র অসম্পূর্ণ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

ফর্ম জমা দেওয়ার নিয়ম

ফর্মটি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করার পর শেষের ঘোষণাপত্র অংশে কৃষক ও সাক্ষীর সই করা দরকার। এরপর নির্ধারিত কৃষি দপ্তরের আধিকারিকের কাছে ফর্ম জমা দেওয়া দরকার।

মনে রাখতে হবে—

  • এক্ষেত্রে আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়া যায় না
  • ফর্ম জমা দেওয়ার সময় প্রাপ্তি স্বীকার (Receipt) অংশটি পূরণ করিয়ে নেওয়া দরকার
  • আধিকারিকের সই ও স্ট্যাম্পসহ রসিদটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি

কেন বাংলা শস্য বীমা কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

আমরা সকলে জানি বর্তমান সময়ে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বেড়েছে। অনেক সময় কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম এক ঝড় বা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তার বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে সঠিকভাবে আবেদন করলে এই প্রকল্প থেকে কৃষকরা প্রকৃত উপকার পেতে পারেন সহজেই এবং ঝুকিও কমবে।

আরও পড়ুন

রাজ্য সরকার দিচ্ছে মাসে মাসে ভাতা! কোন কাজ না করে ব্যাঙ্ক একাউন্টে পাবেন - দেখুন বিস্তারিত - WB Govt Bekar Vata Scheme

Leave a Comment