WB Employees Salary Hike:  পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার কর্মচারীর জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এল কলকাতা হাইকোর্টের এক রায়দানে। পুজোর ঠিক আগেই আদালতের এই রায় একপ্রকার উপহার হয়ে এলো রাজ্যের সেইসব রাজ্যের কর্মীদের জন্য, যাঁরা বছরের পর বছর কাজ করে গেলেও ন্যায্য বেতনবৃদ্ধির দাবিতে বারবার বঞ্চিত হয়ে এসেছিলেন।

এদিকে বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন এই ঘোষণা। কোর্টের এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করা হাজার হাজার কর্মী উপকৃত হতে চলেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সুখবর! কৃষক বন্ধু যুবসাথী প্রকল্পে বৈধ! এবার সকলেি টাকা পেতে চলেছে - WB Yuva Sathi Scheme 2026

দীর্ঘ আন্দোলনের অবসান, মিলল ন্যায্যতার স্বীকৃতি

তবে এই রায়ের পেছনে রয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক নীরব আন্দোলন। রাজ্য সরকারের ২০১১ সালের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যে, যারা চাকরিতে ১০ বছর পূর্ণ করবেন, তাঁদের বেতন বাড়ানে হবে। কিন্তু এই নিয়মের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয় ২০১০ সালের ১লা এপ্রিলের পর নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।

এর ফলে কয়েক হাজার কর্মী, যাঁরা এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিশ্রম করে চলেছেন, তাঁরা নতুন বেতনক্রমের বাইরে পরে থাকেন। ফল স্বরূপ, তৈরি হয় বেতনের ক্ষেত্রে এক চরম প্রকৃতির বৈষম্য। একই কাজ করে একদল কর্মী পেতেন নির্দিষ্ট বেতন, অন্যদল পেতেন তার চেয়ে অনেক কম বেতন। এই অসাম্যের বিরুদ্ধে কর্মীদের একটি বড় অংশ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।

আদালতের রায়: চুক্তির ভিত্তিতে হলেও বেতনে বৈষম্য চলবে না

এদিন কলকাতা হাইকোর্ট এই বৈষম্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, “চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ মানেই বেতনের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবে — এই ধারণা অসাংবিধানিক ও অন্যায্য হয়ে থাকে।” কোর্ট জানায়, রাজ্য সরকার তাদের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বৈষম্য তৈরি করে থাকে, যা একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই রায়ে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৬ ও ২০১৯ সালের সরকারি বিজ্ঞপ্তিগুলোর নির্যাস অনুযায়ীও ৫, ১০ ও ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মী বেতন বৃদ্ধির অধিকারী হয়ে থাকে। তাই ২০১০ সালের পর যারা নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের বাদ দেওয়া আইনত যুক্তিযুক্ত হবে না।

রাজ্যের আপিল খারিজ, পুরস্কার মিলল কর্মীদের লড়াইয়ে

এই মামলায় প্রথমে একক বেঞ্চও কর্মীদের পক্ষে রায় দেয় ঠিকই কিন্তু রাজ্য সরকার এরপর ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত সেই আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়। এর ফলে, আদালতের একক ও ডিভিশন—দুই বেঞ্চই কার্যত একমত যে, চুক্তিভিত্তিক হলেও সরকারি কর্মীদের মধ্যে এইভাবে বেতন বৈষম্য করা যাবে না।

কর্মীদের প্রতিক্রিয়া: এক দশকের অপেক্ষা, পুজোর আগে বড় উপহার

তাই বেতনবৃদ্ধির এই রায় ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বিরাট উচ্ছ্বাস। অনেকেই বলছেন, “এটা শুধু টাকা পাওয়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের সম্মানের লড়াইও বটে।” কেউ কেউ আবার বলেছেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন করছি। অবশেষে আদালত আমাদের পাশে দাঁড়ালেন।”

এদিকে উত্তরবঙ্গের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী বলেন, “আমরা যারা ২০১০ সালের পর নিযুক্ত হয়েছিলাম, তারা বছরের পর বছর কাজ করেও বঞ্চিত রয়ে গেছিলাম। এবার আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাচ্ছে। পুজোর আগেই আমাদের জন্য এ এক বড় আনন্দ হবে।”

প্রশাসনিক দিক থেকে কী হতে পারে?

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারের ওপর বড় অঙ্কের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ আসতে পারে। হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নবীকরণ করলে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। তবে এটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল হবে, অন্যদিকে তেমনি একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

তবে সরকার চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। কারণ, নির্বাচনের বছর সামনেই, এবং এদিলে পুজোর আগে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সরকারের পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়।

বাকি কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী?

এই রায়ের আশা করছেন, যারা এখনো এই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছিলেন, তাঁদের জন্যও পথ খুলতে পারে। এমনকি অন্যান্য রাজ্যেও এই রায় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়ে বহু জায়গায় বিভিন্ন রকমের আইনি লড়াই দেখা যাচ্ছিল, এবং এই রায়ের ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়তে চলেছে।

 রায় শুধু আইনি নয়, এটি ন্যায্যতার জয়

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় শুধুমাত্র এক আইনি সিদ্ধান্ত হবপ না,বরং এটি হাজার হাজার পরিশ্রমী মানুষের ন্যায্যতার স্বীকৃতিও বটে। যখন একজন কর্মী দিনের পর দিন একই কাজ করে থাকে, তখন তাঁর বেতন তার সহকর্মীর তুলনায় অনেক কম হলে সেটি শুধু আর্থিক দিক থেকে বৈষম্য নয়, এটি মানসিক অবমাননারও বিষয় হয়ে দাড়ায়।

তাই এই রায়ের মাধ্যমে, কোর্ট আবারও দেখিয়ে দিল, আইনের চোখে সবাই সমান হয়ে থাকে। কোনো দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি কিংবা নীতি কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করতে পারে না এটা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন

৫০ হাজার স্কলারশিপ! একবার আবেদন করলে বছরে সুযোগ, পশ্চিমবঙ্গের হলে দেখুন - GP Birla Schoolarship 2026

By Aitpune

Aitpune is a experience content writer in various niches. I have 5 years experience in the field of content writing specially Bengali language. But i also work in English. So if any error done by me please forgive me.Thank You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *