Shramshree Online Apply Portal: রাজ্যে প্রথমবারের মতো পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য শুরু হল সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক তথ্যভান্ডার ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্প— ‘শ্রমশ্রী’। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক ঘোষণা করেন যে, ১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) থেকেই শুরু হচ্ছে ‘শ্রমশ্রী পোর্টাল’-এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি স্কিম হবে না বরং রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা কাঠামো হবে, যার মধ্যে রয়েছে— পরিচয়পত্র, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, শিক্ষা সহায়তা, আর্থিক অনুদান ও চাকরির সংযোগ ব্যবস্থা সহ নানা সুবিধা।
সম্পর্কিত পোস্ট
OBC,SC,ST থাকলে ৪৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ! স্কুল কলেজ সকলের পড়ুয়া জন্য দারুণ সুযোগ - Oasis OBC Scholarship 2026বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে হয়রানি, জোরালো প্রতিবাদ রাজ্যের
এদিন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, অসম, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, হরিয়ানা, ও রাজস্থানে বাংলার বহু শ্রমিককে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে। বহু শ্রমিককে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো বা জোর করে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করাও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের নানা তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের কর্মস্থল ত্যাগ করে বাংলায় ফিরেছেন, কিন্তু এরফলে তাঁদের সামনে রয়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সঙ্কট।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা, এক বছর ধরে
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিক বাইরের রাজ্যে অত্যাচারিত হয়ে ফিরে বাড়ি এসেছেন এবং বর্তমানে কাজহীন রয়েছেন, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার চালু করলো “শ্রমশ্রী প্রকল্প”।
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের আওতায়, প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে এক বছর ধরে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এর উদ্দেশ্য— শ্রমিকদের মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা প্রদান করা ও রাজ্যে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
২১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল অফলাইন আবেদন
এদিকে শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ২১ আগস্ট ২০২৫ থেকে বিভিন্ন জেলা ও ব্লকে অফলাইন পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২০,০০০-এর বেশি আবেদন পত্র জমা পড়েছে।
অন্যদিকে সোমবার থেকে অনলাইনে ‘শ্রমশ্রী পোর্টাল’ চালু হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হতে চলেছে বলে দাবি করেন। যাঁরা অফলাইনে আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদন ধাপে ধাপে অনলাইনে আপলোড করা হবে এবং তাঁদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
কীভাবে কাজ করবে ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল?
সম্প্রতি চালু হওয়া শ্রমশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে, আবেদনকারীরা:
- অনলাইনে নিজেদের রেজিস্টার করতে হবে
- আবেদনপত্রের বর্তমান অগ্রগতি জানতে পারেন
- এরপর প্রাপ্ত সুবিধাগুলির বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন
- এরপর নিজের প্রোফাইল, নথিপত্র আপলোড ও সংশোধন করতে পারেবেন
- স্কিমে অন্তর্ভুক্ত নানা প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন
জানানে হয়, এই পোর্টালের মাধ্যমে রাজ্য একটি কেন্দ্রীভূত তথ্যভান্ডার তৈরি করতে চলেছে, যা ভবিষ্যতে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে সংযুক্ত হতে সহায়তা করে থাকবে।
কী কী সুবিধা পাবেন শ্রমিকরা?
শ্রমশ্রী প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীরা যে সমস্ত সুবিধা পাবেন:
- মাসিক আর্থিক সহায়তা: প্রতি মাসে ₹৫০০০ পর্যন্ত পাবেন
- পরিচয়পত্র: ভ্যারিফায়েড শ্রমিক হিসেবে ইউনিক ID দেওয়া হবে
- স্বাস্থ্যসেবা: সরকারি হাসপাতাল ও হেলথ ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা
- বিমা সুবিধা: দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হবে
- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ট্রেনিং দেওয়া হবে
- চাকরি সংযোগ: সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগে সংযোগ করা
আবেদন করতে কী লাগবে?
‘শ্রমশ্রী’ পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার জন্য যেসব তথ্য ও নথিপত্র থাকতে হবে:
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড / রেশন কার্ড
- আগের কর্মস্থলের তথ্য (যদি থাকে)
- ঠিকানার প্রমাণ
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস
- নিজের সাম্প্রতিক ছবি
- মোবাইল নম্বর ও ইমেল (যদি থাকে)
কোথা থেকে আবেদন করবেন?
প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন অনলাইন অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে (যেটি শ্রম দফতরের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত থাকবে)। আবেদন ফর্ম পূরণ করে নথিপত্র আপলোড করে সাবমিট করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
তবে যারা ইন্টারনেট বা স্মার্টফোনে স্বচ্ছন্দ নয়, তাঁদের জন্য ব্লক ও পঞ্চায়েত অফিসে সহায়তা কেন্দ্রে (Helpdesk) গিয়ে অনলাইনে আবেদন সংক্রান্ত যোগাযোগ করবেন যেখানে কর্মীরা ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন।
সচেতনতা শিবির ও ক্যাম্পে সহযোগিতা
ইতিমধ্যে শ্রম দফতরের তরফে রাজ্যের প্রতিটি ব্লক, পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে সচেতনতা শিবির ও রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প চালু করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শ্রমিকরাও এই প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়ে পড়ে।
এই ক্যাম্পগুলোতে onsite নাম নথিভুক্তি, নথি যাচাই এবং training সম্পর্কে orientation করা যাবে।
সবশেষে বলা যায়, ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল ও প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার সম্মান, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাংলা থেকে বহু শ্রমিক জীবিকার টানে বাইরের রাজ্যে থাকেন। কিন্তু তাঁরা যদি বঞ্চনার শিকার হয়ে ঘরে ফিরে আসেন, তবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এই প্রকল্প সেই দায়িত্ব পালনেরই একটি ধাপ হবে মাত্র। লক্ষাধিক শ্রমিকের নতুন আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প বলে অনুমান করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার আশা করছে— পরবর্তী এক বছরের মধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ শ্রমিক এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন।

Aitpune is a experience content writer in various niches. I have 5 years experience in the field of content writing specially Bengali language. But i also work in English. So if any error done by me please forgive me.Thank You










