OBC Eligible For EWS Certificate: পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি প্রার্থীদের জন্য ফের এক দারুন সুসংবাদ আসলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা ওবিসি মামলার পর এবার ওবিসিদের বিরাট জয় লাভ হল। কেননা এতদিন ধরে যেখানে ওবিসিদের কোন সুযোগই ছিল না সেখানে নতুন করে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুযোগ প্রদান করার রায় দান দেওয়া হল। সাম্প্রতিক কলকাতা হাইকোর্টের এক রাজধানী বলা হয়েছে ওবিসি সংরক্ষণ প্রার্থীরাও এখন EWS সংরক্ষণের আওতায় আসতে পারবে।তবে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে।
একদিকে ওবিসি মামলা এবং অন্যদিকে EWS সংক্রান্ত এই রায় ওবিসি প্রার্থীদের জন্য দারুন সুসংবাদ নিয়ে এসেছে। তাই আজকের প্রতিবেদনে এই রায় সম্পর্কে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে যাচ্ছি আপনি যদি আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পড়ুন –
সম্পর্কিত পোস্ট
OBC,SC,ST থাকলে ৪৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ! স্কুল কলেজ সকলের পড়ুয়া জন্য দারুণ সুযোগ - Oasis OBC Scholarship 2026এই মামলার প্রেক্ষাপট
EWS সার্টিফিকেটের নিয়ম অনুযায়ী এতদিন যদি কোনও আবেদনকারীর নাম বা পদবি OBC তালিকাভুক্ত হলে তবে তিনি EWS সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারতেন না। যার ফলে বহু প্রার্থী যাদের আর্থিক অবস্থা অনেক দুর্বল, তারাও কেবলমাত্র OBC পরিচয়ের কারণে EWS কোটার সুবিধা নিতে পারতেন না বলে উল্লেখ।
এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়ে থাকে। এদিন মামলাকারীরা যুক্তি দেন, তারা OBC সংরক্ষণের সুবিধা নিতে চান না, বরং নিজেদের আর্থিক দুর্বলতার কারণে শুধুমাত্র EWS কোটার সুবিধা নিতে চাই তারা। আদালত এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে রায় প্রদান করা হয়ে থাকে।
আদালতের রায়
কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ থেকে দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে –
- এখন থেকে General এবং OBC উভয় শ্রেণির প্রার্থীরাই EWS সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জমা করতে পারবেন।
- তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, OBC প্রার্থীদের তাদের জাতিগত সংরক্ষণের সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে।
- রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে অনলাইন আবেদন পোর্টাল আপগ্রেড করতে, যাতে General ও OBC উভয় শ্রেণির প্রার্থীরা অনলাইনে সহজেই আবেদন জানাতে পারবেন।
- এদিন আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, জাতি ভিত্তিক সার্টিফিকেট এবং EWS সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাজে। জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই, কারণ এখানে মূলত আর্থিক অবস্থা নির্ণায়ক হয়ে থাকে।
EWS সার্টিফিকেটের যোগ্যতার শর্তাবলী
এদিন কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের পর, EWS সার্টিফিকেট পেতে হলে প্রার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে অবশ্যই। এগুলো হলো –
- আবেদনকারী অবশ্যই ভারতের বাসিন্দা হতে হবে।
- আবেদনকারী General বা OBC শ্রেণির হতে হবে।
- আবেদনকারী এবং তার পরিবার রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে থাকবেন।
- পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকা বা তার কম হতে হবে।
- পরিবারের নামে ৫ একরের বেশি কৃষিজমি থাকলে অযোগ্য হবে।
- পাশাপাশি পরিবারের নামে ১০০০ বর্গফুট বা তার বেশি আকারের ফ্ল্যাট থাকা যাবে না।
- পৌর এলাকায় ১০০ বর্গগজের বেশি জমি বা অন্য এলাকায় ২০০ বর্গগজের বেশি জমি থাকলে আবেদন অযোগ্য হবে।
এই শর্তাবলী পূরণ করলেই আবেদনকারীরা EWS সার্টিফিকেটের সুবিধা নিতে পারবেন বলে উল্লেখ।
EWS সার্টিফিকেটের সুবিধা
EWS সার্টিফিকেট থাকলে আবেদনকারীরা নীচের সুবিধাগুলি পাবেন –
- সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন।
- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে সমান সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সহায়তা পাবেন।
আগে শুধুমাত্র General শ্রেণির প্রার্থীরাই এই সুবিধা পেয়ে থাকতেন। এবার OBC শ্রেণিও তাদের আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবেন বলে জানা যায়।
রায়ের সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
এই রায় পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশের সামাজিক কাঠামোয় একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এতদিন OBC প্রার্থীরা নিজেদের জাতিগত সংরক্ষণ বা রিজার্ভেশন সুবিধা ব্যবহার করতে চাইলে EWS সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। আবার যারা জাতিগত সংরক্ষণ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের জন্য কোনও বিকল্প সুবিধা খোলা ছিল না।
বিশেষ করে এখন আদালতের রায়ের ফলে এমন প্রার্থীরাও সুযোগ পাবেন যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছেন কিন্তু নিজেদের OBC সংরক্ষণের সুবিধা নিতে চান না।যার ফলে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে জানা যায় ।
কেন এই রায় ঐতিহাসিক
১. এটি প্রথমবারের মতো OBC প্রার্থীদের জন্য EWS সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ।
২. এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, আর্থিক দুর্বলতা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে হবে।
৩. চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলো, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৪. প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে, কারণ সরকারকে এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী পোর্টাল ও আবেদন প্রক্রিয়া সাজাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা জানান, এই রায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে। এতদিন জাতিগত কারণে বহু প্রার্থী বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এবার তারা শুধুমাত্র আর্থিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ পেয়ে থাকবেন। এর ফলে প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে চলেছে।
তাই কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া এই রায় নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। এটি কেবল আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনেনি, বরং সমাজে সমতার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে বলে জানা যায়। এখন থেকে আর্থিকভাবে দুর্বল OBC প্রার্থীরাও নিজেদের উন্নয়নের সুযোগ পেয়ে থাকবেন।
এটি পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Aitpune is a experience content writer in various niches. I have 5 years experience in the field of content writing specially Bengali language. But i also work in English. So if any error done by me please forgive me.Thank You










