LPG Gas Price Reduce: সাধারণত পুজোর আগে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় প্রত্যাশা থাকে, যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে খানিকটা হলেও ছাড় পায় তারা। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দামে ছাড় পাওয়া যা সরাসরি সংসারের মাসিক ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। বর্তমানে গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় ৮২৯ টাকা, যা বহুদিন ধরেই অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন— এবার কি পুজোর আগে গ্যাস সস্তা হতে চলেছে?
কয়েক মাস ধরেই অপরিবর্তিত গৃহস্থ সিলিন্ডারের দাম
আমরা দেখেছি গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম সামান্য কমলেও গৃহস্থের সিলিন্ডারে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। এই স্থিতাবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্র বা তেল সংস্থাগুলির মধ্যে যেন কোনও উদ্যোগেই দেখা যাচ্ছে না। অথচ এদিকে বাজারে ডালের দাম, আনাজের দাম, তেলের দাম বেড়েই চলেছে আকাশ ছোঁয়া— এই অবস্থায় রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকা মানেই কার্যত বোঝা আরও ভারি হতে চলেছে।
সম্পর্কিত পোস্ট
OBC,SC,ST থাকলে ৪৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ! স্কুল কলেজ সকলের পড়ুয়া জন্য দারুণ সুযোগ - Oasis OBC Scholarship 2026সাবসিডির আওতায় থাকা সত্ত্বেও সুরাহা নেই
যদিও সরকার গৃহস্থ সিলিন্ডারের জন্য এখনও কিছু পরিবারকে সাবসিডি দেয় ঠিকই। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগই তা পাইনা। এমনকি যারা পান, তাদেরও সাবসিডির পরিমাণ নামমাত্র, যা গ্যাসের প্রকৃত দামবৃদ্ধিকে ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পদক্ষেপ বলা যায়। তাই বহু পরিবার মাসে একাধিক বার গ্যাস ব্যবহার না করে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন— যেমন, ইলেকট্রিক কুকার বা ইন্ডাকশন প্রভৃতি।
সাধারণ গৃহস্থের হতাশা এবং সরকারের চাপ
সাধারণত পুজোর সময় সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তি খোঁজে থাকে। আগের বছরগুলিতে এই সময়ে একাধিক ঘোষণা আসতো— কোথাও গ্যাসে ছাড়, কোথাও রেশন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত জোগান দেওয়া। তবে এবছর এখনও পর্যন্ত গৃহস্থের গ্যাসে কোনও ঘোষণা আসেনি যা দেশবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র বা তেল সংস্থাগুলি হয়তো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে। আগামী সপ্তাহে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি আরও সস্তা হয়ে থাকে, তখন হয়তো কেন্দ্রীয় সরকার কোনও চমকও দিলে দিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে সরকার বা ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, এইচপিসিএল— কারও তরফে কিছু ঘোষণা করে জানানো হয়নি।
গৃহিণীদের কণ্ঠে ক্ষোভ
এই নিয়ে একজন কলকাতার গৃহবধূ বললেন,
“আমরা মাসে একটা সিলিন্ডার চালিয়ে কোনওভাবে সংসার চালিয়ে থাকি। বাজারে যা দাম, তাতে সপ্তাহে দু’বার মাংস রান্না করাও এখন বিলাসিতা হয়ে দাড়িয়েছে। গ্যাসের দাম যদি আরেকটু কমতো, তবে একটু স্বস্তি পেতাম আমরা। পুজোর সময় তো অনেক রাঁধার থাকে!” তাই সরকারকে একটু ভাবা দরকার।
নির্বাচনী বছরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে
২০২৬ সালে দেশের একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সঙ্গে রয়েছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গও। তার আগেই মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে— এমন সম্ভাবনা রাজনীতির চর্চায় উঠে আসছে বলে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত রান্নার গ্যাস নিয়ে কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে এক খবরে স্বস্তি, কিন্তু গৃহস্থের জন্য নয়
যদিও রান্নার গ্যাসের দামে এখনও কোনও হেরফের হয়নি, তবে তেল সংস্থাগুলি এক দারুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবড উঠে আসছে— ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৫১.৫০ টাকা কমানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কত হলো?
এই দামের হ্রাসের পর বিভিন্ন শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম নিম্নরূপ:
| শহর | পুরনো দাম (প্রায়) | বর্তমান দাম | হ্রাসের পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| দিল্লি | ₹1631.50 | ₹1580 | ₹51.50 |
| কলকাতা | ₹1735.50 | ₹1684 | ₹51.50 |
এই সিদ্ধান্ত মূলত রাজ্যের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট খাবারের দোকানগুলোর জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে চলেছে। কারণ বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারই তাঁদের প্রধান জ্বালানি উৎস হয়ে দাড়িয়েছে। একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তেল সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরপর তিন মাস ধরে দাম কমেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের
এই নিয়ে গত তিন মাসে লাগাতার কমল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম:
- জুন ২০২৫: ২৪ টাকা হ্রাস
- জুলাই ২০২৫: ৫৮.৫০ টাকা হ্রাস
- আগস্ট ২০২৫: ৩৩.৫০ টাকা হ্রাস
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: আরও ৫১.৫০ টাকা হ্রাস
এতে স্পষ্ট যে, তেল সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলতে চাইছে যাতে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থেকে থাকে এবং ছোট ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
তবে একথা বলা যায় যে, যদিও গৃহস্থদের জন্য এখনও কোনও মূল্যছাড় আসেনি, তবে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য এ এক বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ী মহল পুজোর আগে এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ পরিবারগুলি এখনো তাকিয়ে কেন্দ্র বা তেল সংস্থাগুলোর দিকেই, আশায় রয়েছেন কবে কোনো ঘোষনা আসবে— যদি শেষমেশ তাঁদের জন্যও কোনও সুখবর আসে।

Aitpune is a experience content writer in various niches. I have 5 years experience in the field of content writing specially Bengali language. But i also work in English. So if any error done by me please forgive me.Thank You










