প্লাস্টিক সিম অতীত! বাজারে এখন E-Sim কার্ড তুঙ্গে – আপনার করনীয় কি? দেখুন বিস্তারিত – E Sim Card Update 2025

E Sim Card Update 2025: বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি দ্রুত হারে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেখানে টেলিকম জগতে এসেছে এক নতুন উদ্ভাবন এসেছে, যার নাম— ই-সিম (eSIM)। আনাদেদ দোশে সাধারণ প্লাস্টিক সিম কার্ডের যুগ যেখানে এক সময় অপরিহার্য ছিল, সেখানে এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ভার্চুয়াল সিম প্রযুক্তি পরিষেবা। ভারতের Airtel, Jio এবং Vi (Vodafone Idea)-র মতো প্রধান টেলিকম সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ই-সিম পরিষেবা নিয়ে নানা আপডেট দিয়েছে।

তাই আজকের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানাবো— ই-সিম আসলে কী, কোন ফোনে এটি ব্যবহার করা যাবে, কীভাবে অ্যাকটিভেট করতে হয়, এর খরচ কত এবং এর সুবিধা-অসুবিধাই বা কী আছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

OBC,SC,ST থাকলে ৪৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ! স্কুল কলেজ সকলের পড়ুয়া জন্য দারুণ সুযোগ - Oasis OBC Scholarship 2026

ই-সিম কী? কিভাবে কাজ করে?

ই-সিম, অর্থাৎ ইম্বেডেড সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল (Embedded SIM), একটি ডিজিটাল সিম ব্যবস্থা যা সরাসরি ফোনের মাদারবোর্ডে ইনবিল্ট হয়ে থাকে। সাধারণ সিম কার্ডের মতো আলাদা করে কোনও প্লাস্টিক চিপ প্রয়োজন নেই।

এই প্রযুক্তি প্রথমে ইউরোপ ও আমেরিকান দেশগুলোতে জনপ্রিয় ছিল এবং এখন তা ভারতেও দ্রুত হাটে ছড়িয়ে পড়ছে। ই-সিম মূলত ডিভাইসের ভিতরে ফিক্সড করা থাকে, এবং টেলিকম সংস্থা থেকে প্রাপ্ত একটি QR কোড স্ক্যান করে তা অ্যাকটিভেট করে থাকে।

এই QR কোড মূলত গ্রাহকের ফোন নম্বর, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে এবং সেই অনুযায়ী ফোনকে কনফিগার করে তুলে ।

কিভাবে eSIM অ্যাকটিভেট করবেন?

eSIM অ্যাকটিভেশনের পদ্ধতি প্রতিটি টেলিকম সংস্থার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে Airtel, Jio ও Vi গ্রাহকেরা SMS-এর মাধ্যমে ই-সিম অ্যাকটিভেট করে থাকে।

Airtel eSIM:

  • SMS করুন eSIM <space> email ID থেকে 121 নম্বরে পাঠাতে হয়।
  • এর কনফার্মেশন SMS আসবে।
  • এর Reply দিন 1 লিখে।
  • তারপর রেজিস্টার্ড ইমেল ID-তে একটি QR কোড চলে আসবে।
  • সেটিংসে গিয়ে ‘Add Mobile Plan’ অপশনে গিয়ে কোড স্ক্যান করতে হবে ।

Jio eSIM:

  • Jio Store বা Jio Care-এ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়
  • রেজিস্ট্রেশনের পরে QR কোড দেওয়া হয়
  • সেটিংস থেকে স্ক্যান করে প্ল্যান অ্যাড করতে হবে

Vi (Vodafone Idea):

Vi কেবল পোস্টপেইড গ্রাহকদের জন্য eSIM পরিষেবা দেয়।

  • SMS করুন eSIM<space>email ID থেকে 199 নম্বরে পাঠাতে হবে।
  • রেজিস্টার্ড ইমেলে আসবে QR কোড
  • কোড স্ক্যান করে অ্যাকটিভেশন সম্পন্ন করতে হবে

প্রতিটি ডিভাইসের ক্ষেত্রে QR কোড স্ক্যান করার পদ্ধতি সামান্য আলাদা হতে পারে। তাই ফোনের নির্দেশিকা বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখে কাজ করাই উত্তম হবে।

ই-সিমের খরচ কত?

eSIM ব্যবহার করার জন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। আপনি যে রিচার্জ প্ল্যান বা পোস্টপেইড প্ল্যান ব্যবহার করেন, সেটাই প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

অর্থাৎ ই-সিম প্ল্যান একই দামে চলে, যেমনটা সাধারণ সিম কার্ডে হয়ে থাকে। শুধুমাত্র সিম কার্ডের পরিবর্তে ডিজিটাল QR কোডের মাধ্যমে তা চালু করার প্রয়োজন হয়।

এক ফোনে একাধিক নম্বর ব্যবহারের সুবিধা

eSIM-এর অন্যতম বড় সুবিধা হল, একটি ফোনে ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিম— উভয়ই ব্যবহার করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ আপনি চাইলে একসাথে দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের দুটি নম্বর চালু রাখতে পারেন— একটি ফিজিক্যাল, আরেকটি ই-সিম।

অনেক আধুনিক iPhone বা Samsung ফোনে এখন eSIM + eSIM কম্বিনেশনও সাপোর্ট করে থাকে, যেখানে দুটি eSIM নম্বর চালানো সম্ভব হয়।

ই-সিমের সুবিধাগুলি কী?

  • সিম হারানোর ভয় নেই – যেহেতু এটি ফোনের ভিতরে ফিক্সড থাকে, তাই সিম হারানোর সম্ভাবনা নেই।
  • দোকানে যাওয়ার ঝামেলা নেই – ই-সিম QR কোডের মাধ্যমে অনলাইনেই অ্যাকটিভেট করা সম্ভব।
  • মাল্টি-নেটওয়ার্ক সাপোর্ট – অনেক ফোনে একসাথে একাধিক ই-সিম ব্যবহার করতে পারেন।
  • ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রযুক্তি – এটি আগামীর কানেক্টিভিটির জন্য অত্যন্ত উপযোগী হব।
  • ইকো-ফ্রেন্ডলি – প্লাস্টিক সিমের প্রয়োজন নেই, তাই পরিবেশবান্ধব হয়ে থাকে ।

ই-সিমের অসুবিধাগুলি কী?

  • ফোন বদলালে সমস্যা – ই-সিম সরাসরি অন্য ফোনে ট্রান্সফার করা যাবে না, আবার অ্যাকটিভেট করতে হয়।
  • সব ফোনে সাপোর্ট নেই – বেশিরভাগ বাজেট ফোনে এখনও ই-সিম প্রযুক্তি ব্যবহার নেই।
  • ফোন হারালে অসুবিধা – ফোন হারালে সঙ্গে সঙ্গে সিম পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে থাকে।
  • QR কোড ভুলে গেলে সমস্যা – QR কোড হারিয়ে গেলে আবার নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

কোন ফোনে ই-সিম ব্যবহার করা যায়?

সব স্মার্টফোনে ই-সিম সাপোর্ট ব্যবস্থা নেই। যেসব ফোনে eSIM প্রযুক্তি ব্যবহার রয়েছে, কেবল সেগুলিতেই এটি ব্যবহার করতে পারবে।

নিচে কিছু জনপ্রিয় ফোনের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলিতে ই-সিম ব্যবহার করা যায়—

iPhone সিরিজ:

  1. iPhone XR, XS, XS Max
  2. iPhone 11 সিরিজে
  3. iPhone 12, 13, 14, 15 সিরিজে
  4. iPhone SE (2nd Gen এবং পরবর্তী)

Samsung সিরিজ:

  1. Galaxy Z Flip, Z Fold সিরিজের ফোনে
  2. Galaxy S20 সিরিজ ও পরবর্তীতে থাকতে পারে
  3. Galaxy Note 20 সিরিজে

Google Pixel সিরিজ:

  • Pixel 3, 3a এবং তার পরবর্তী মডেলগুলো আছে

অন্যান্য ডিভাইস:

  1. Apple Watch (Cellular), Galaxy Watch
  2. কিছু আধুনিক ল্যাপটপ ও ট্যাবে
  3. গাড়ির স্মার্ট কানেক্টিভিটি সিস্টেমে ব্যবহার হচ্ছে
  4. ড্রোন ও IoT ডিভাইসে

যদি আপনার ফোনে eSIM সাপোর্ট না করে থাকে, তাহলে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা

টেলিকম সংস্থাগুলি বারবার সতর্ক করছে— QR কোড বা eSIM অ্যাকটিভেশন সংক্রান্ত তথ্য কখনও কাউকে শেয়ার করা যাবে না। ইদানীং অনেক ফ্রড QR কোডের মাধ্যমে সিম সুইচিং করে নানা ক্রাইম করেছে।

আপনার রেজিস্টার্ড ইমেল বা ফোন নম্বরে কোনও সন্দেহজনক QR কোড এলে তা স্ক্যান করনেন না। প্রয়োজনে টেলিকম হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে। ই-সিম সংক্রান্ত সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন

Krishak Bandhu নিয়ে সুসংবাদ! শুরু হল ফের একাউন্টে টাকা ক্রেডিট প্রক্রিয়া, দেখুন বিস্তারিত - WB Krishak Bandhu Scheme Update

Leave a Comment